মূল অংশে যান

গাইড

নকশি কাঁথার দাম কত? ন্যায্য দাম চেনার গাইড

লিখেছেন JADUZ সম্পাদকীয়৫ মিনিটে পড়া

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলো ঢাকার দোকানে নকশি কাঁথার দাম পেয়েছে মোটামুটি ৳১,২৫০ থেকে ৳২০,০০০; কুশন কভার ৳৬০০-এর মধ্যে, আর নিউমার্কেটে দর শুরু ৳৯০০ থেকে। ২০২১ সালে এক কারুশিল্পী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, খুব সূক্ষ্ম নকশার একটি কাঁথার দাম ৳২৫,০০০-এর মতোও হতে পারে। দাম আসলে সেলাইয়ের সময়ের হিসাব: মাপ, ফোঁড়ের ঘনত্ব আর নকশার খুঁটিনাটি আগে, তারপর কাপড়।

নকশি কাঁথার দাম কত?

নকশি কাঁথার (নকশিকাঁথা বা নকশী কাঁথা, যে বানানেই লিখুন) কোনো সরকারি দামের তালিকা আমরা পাইনি। তাই সবচেয়ে কাজের তথ্য হলো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত, তারিখসহ দোকানের দাম। কাঁথা কীভাবে তৈরি হয় আর কোথায়, তা জানতে আমাদের নকশিকাঁথার গাইড দেখুন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলো ঢাকার কয়েকটি দোকানে কাঁথা আর কাঁথা-ফোঁড়ের পণ্যের দাম যাচাই করেছিল:

  • উত্তরার মাধবী মার্ট: কাঁথা ৳১,২৫০ থেকে ৳২০,০০০।
  • কুমুদিনী হ্যান্ডিক্রাফট: কাঁথা ৳৮,১০০ থেকে ৳১৪,০০০।
  • কারুপল্লী: বিছানার চাদর ৳৩,০০০ থেকে ৳৪,৪০০, কুশন কভার ৳৬০০-এর মধ্যে।
  • নিউমার্কেট, যেখানে দরদাম চলে: দাম শুরু হতে পারে ৳৯০০ থেকে।

ওপরের দিকে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টারকে এক কারুশিল্পী বলেছিলেন, মাছ, ফুল আর জটিল নকশায় ভরা একটি কাঁথার দাম প্রায় ৳২৫,০০০ হতে পারে। প্রতিটি দাম তার তারিখের হিসাব, স্থায়ী দর নয়। কাপড় আর মজুরির খরচ বদলালে দামও বদলায়।

দামটা আসলে কীসের জন্য?

মূলত সময়ের জন্য। নকশি কাঁথা কয়েক পরত কাপড়, যা সারির পর সারি ছোট চলতি ফোঁড়ে একসঙ্গে গাঁথা। বাংলাপিডিয়া বলছে, কাঁথা কতটা পুরু হবে তার ওপর নির্ভর করে তিন থেকে সাতটি শাড়ি পরতে পরতে সাজানো হয়। প্রতিটি মোটিফ, আর তার চারপাশের জমিন ভরাট করা সারি সারি ফোঁড়, সবই হাতে তোলা।

সময় কতটা লাগে, তার হিসাবও একেক জায়গায় একেক রকম:

  • ২০১৯ সালে রাজশাহী থেকে বাসসের প্রতিবেদন: নকশা অনুযায়ী একটি নকশি কাঁথা বানাতে এক থেকে দুই সপ্তাহ লাগে।
  • নাটোরের এক নারী দলের কথা লিখে হেইফার ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, মাঝারি একটি কাঁথা শেষ হতে দুই-তিন মাস লাগে, আর নারীরা দিনে অন্তত এক ঘণ্টা এতে কাজ করেন।
  • ডেইলি স্টারের ২০২১ সালের লেখার সেই কারুশিল্পী বলেছেন, ঘন নকশার একটি কাঁথায় ছয় বছর পর্যন্তও লেগে যেতে পারে।

তাই একই মাপের দুটি কাঁথার দামে বড় পার্থক্য দেখলে আগে ফোঁড়ের ঘনত্ব আর নকশার খুঁটিনাটি দেখুন। প্রথম আলোর জরিপ এর সঙ্গে রং, নকশা আর কাপড়ের মানের কথাও বলেছে।

কোন ধরনের কাঁথার দাম কেমন?

কাঁথা মানে একটি পণ্য নয়। বাংলাপিডিয়ায় পুরোনো ধরনের মধ্যে আছে লেপ কাঁথা, সুজনি কাঁথা, ছোট চৌকো রুমাল কাঁথা, আয়না-চিরুনি মুড়ে রাখার আরশিলতা আর খাবার সাজানোর দস্তরখান। এখন একই ফোঁড় উঠছে দেয়ালসজ্জা, কুশন কভার, পার্স, টেবিল ম্যাট আর শাড়িতেও।

প্রথম আলোর জানুয়ারি ২০২৬-এর হিসাবে মাপ আর কাজের সঙ্গে দাম কীভাবে বাড়ে:

  • পার্স ও টেবিল ম্যাট: কুমুদিনীতে ৳৩০০ থেকে ৳৩৫০।
  • কুশন কভার: কারুপল্লীতে ৳৬০০-এর মধ্যে।
  • ওয়ালম্যাট: কুমুদিনীতে ৳৭০০ থেকে ৳২,২০০।
  • বিছানার চাদর: কারুপল্লীতে ৳৩,০০০ থেকে ৳৪,৪০০।
  • শাড়ি: কুমুদিনীতে ৳৫,০০০ থেকে ৳৫,৫০০।
  • পুরো কাঁথা: কুমুদিনীতে ৳৮,১০০ থেকে ৳১৪,০০০, মাধবী মার্টে ৳২০,০০০ পর্যন্ত।

ছোট জিনিস হাতে সেলাই করা হলেও সস্তা হতে পারে, কারণ তাতে সপ্তাহ নয়, কয়েক ঘণ্টা লাগে। আর কিনারা পর্যন্ত ঘন ফোঁড়ে ভরা বড় কাঁথা যেকোনো দামের তালিকার ওপরের দিকেই থাকে।

কিছু "কাঁথা" এত সস্তা কেন?

সাধারণত তিনটি কারণ, তার মধ্যে কেবল একটিই চিন্তার।

  • ছোট মাপ। আসল হাতের সেলাইয়ের পার্স বা কুশন কভারের দাম কয়েকশো টাকা হতেই পারে।
  • দ্রুত ও সহজ উৎপাদন। আরামকোওয়ার্ল্ড ২০২৫ সালে লিখেছে, জামালপুরের মতো কেন্দ্রে কাপড়ে স্টেনসিলে নকশা ছাপিয়ে তার ওপর সেলাই করা হয়, আর উদ্যোক্তারা আশপাশের গ্রামের ১০০ জন পর্যন্ত নারীকে দিয়ে কাঁথা তৈরি করান। এতে খরচ ও সময় কমে, কিন্তু সেলাইটা হাতেরই।
  • মেশিনের সেলাই বা ছাপা কাপড়। ২০১৯ সালে বাসস জানিয়েছিল, রাজশাহীতে মাপ অনুযায়ী একটি নকশি কাঁথা সেলাইয়ের জন্য নারীরা ৳১,৬০০ থেকে ৳১,৭০০ পান। এটা শুধু সেলাইয়ের মজুরি; কাপড়, সুতা বা দোকানের খরচ এর বাইরে।

পূর্ণ মাপের একটি কাঁথার দাম যদি সেই মজুরির চেয়েও কম হয়, জিজ্ঞেস করুন কীভাবে তৈরি। আমাদের হাতের সেলাই না মেশিনের, চেনার গাইডে সাতটি পরীক্ষা আছে, শুরু উল্টো পিঠ দেখা দিয়ে।

জামালপুর, যশোর আর রাজশাহীর দামে কি পার্থক্য আছে?

জেলা ধরে দামের তুলনা করেছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস আমরা পাইনি। তাই "অমুক জেলার কাঁথা সবসময় দামি", এমন দাবি শুনলে সাবধান। উৎসগুলো যা দেখায় তা হলো, অঞ্চলভেদে নকশার ধরন আর কাজের বন্দোবস্ত আলাদা, আর এ দুটোই কাঁথায় কত ঘণ্টা লাগবে তা ঠিক করে।

  • [জামালপুর](/bn/districts/jamalpur)। প্রথম আলো ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর জামালপুরের নকশিকাঁথার জিআই আবেদন জার্নালে প্রকাশ করেছে; উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ২০২৪ সালেই এটি বাংলাদেশের জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়। স্টেনসিল করা কাপড় আর সুতা দিয়ে গ্রামের নারীদের কাজ দেওয়ার উদ্যোক্তা-ব্যবস্থাও জামালপুরে চালু।
  • [রাজশাহী](/bn/districts/rajshahi)। বাংলাপিডিয়া বলছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের কাঁথায় সেলাই ঘন; উইকিপিডিয়া লিখেছে, লহরি কাঁথা রাজশাহীতে বিশেষ জনপ্রিয়।
  • [যশোর](/bn/districts/jashore)। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী লিক বা আনারসি কাঁথা যশোর অঞ্চলেও দেখা যায়, আর যশোর স্টিচ রিফু ফোঁড়েরই একটি রূপ।

জিআই নাম বলে কাঁথাটি কোথা থেকে এসেছে। দামের নিশ্চয়তা দেয় না।

টাকাটা কার কাছে যায়?

এই প্রতিবেদনগুলো যে ব্যবস্থার কথা বলে, তাতে যিনি সেলাই করেন, তিনি বিক্রেতা নন। বাসস ২০১৯ সালে জানিয়েছিল, রাজশাহীর এক উদ্যোক্তা কাপড় ও সুতা দেন আর প্রতিটি কাঁথার জন্য নারীদের ৳১,৬০০ থেকে ৳১,৭০০ দেন। আরামকোওয়ার্ল্ডও লিখেছে, জামালপুরের উদ্যোক্তারা ফেরত আসা প্রতিটি সেলাই করা কাঁথার জন্য টাকা দেন। মজুরি আর দোকানের দামের ফারাকে থাকে কাপড়, সুতা, পরিবহন, দোকানের খরচ ও মুনাফা। শেষ দামের কত ভাগ সেলাইকারীর হাতে যায়, তা কোনো উৎসে নেই, তাই আমরা অনুমান করব না।

JADUZ-এ প্রত্যেক কারিগর নিজের নামে বিক্রি করেন, আর প্রতিটি পণ্যে তাঁর জেলা লেখা থাকে। বিক্রি শুরুর আগে JADUZ-এর কিউরেটর কারিগরের কাজের নমুনা, নিজ হাতে তৈরির প্রমাণ আর পরিচয় যাচাই করেন, আর প্রতিটি পণ্য অনুমোদনের পরই প্রকাশ পায়। JADUZ কারিগরের প্রচার করে, কুরিয়ারের মাধ্যমে টাকা তোলে, কমিশন রেখে বাকিটা কারিগরকে দেয়। আরও জানতে দেখুন JADUZ কীভাবে কাজ করে, অথবা সরাসরি পরিচিত হোন কারিগরদের সঙ্গে।

টাকা দেওয়ার আগে দাম কীভাবে যাচাই করবেন?

দাম দিয়ে কী পাচ্ছেন না জানলে দামের কোনো মানে নেই। দুটি কাঁথা তুলনা করার আগে দুটির বেলাতেই এই চারটি তথ্য নিন:

  • মাপ। মাপ জেনে নিন। সিঙ্গেল আর ডাবল বিছানার কাঁথায় কাজের পরিমাণ আলাদা।
  • কতটা ভরাট। পুরো জমিন সারি সারি ফোঁড়ে ভরা, নাকি সাদা কাপড়ে শুধু মোটিফ? পুরো ভরাট কাঁথায় অনেক বেশি সময় লাগে।
  • সময়। সেলাই করতে কত দিন লেগেছে জিজ্ঞেস করুন। কারিগর সাধারণত দিন, সপ্তাহ বা মাসের হিসাবে বলতে পারেন।
  • কে আর কোথায়। "গ্রাম থেকে আনা" কথার চেয়ে কারিগরের নাম আর জেলা অনেক বেশি ভরসার।

তারপর উল্টে দেখুন। হাতের চলতি ফোঁড়ে দৈর্ঘ্য একটু একটু আলাদা হয়, দুই পিঠেই দেখা যায়, আর নতুন সুতা শুরুর জায়গায় ছোট গিঁট থাকে। দাম কম আর পেছনটা মেশিনের মতো নিখুঁত হলে কম দামের কারণটা সম্ভবত ওখানেই।

এখনকার দাম কোথায় দেখবেন?

পত্রিকার দাম দ্রুত পুরোনো হয়, তাই এগুলো দামের সীমা বোঝার জন্য, নির্দিষ্ট দর হিসেবে নয়। JADUZ-এ প্রতিটি পণ্যে চলতি দাম, কারিগর ও জেলার নাম, আর পণ্যটি তৈরি আছে নাকি অর্ডারে বানানো হবে তা লেখা থাকে। অর্ডারে বানানো পণ্যে তৈরির সময় দেখানো থাকে, যা ডেলিভারির সময়ের সঙ্গে যোগ হয়। কাঁথার চলতি দাম দেখতে ঘুরে আসুন বস্ত্র ও কাঁথা বিভাগে।

কাউকে উপহার দিতে চাইলে আমাদের হাতে তৈরি উপহারের গাইডে বাজেট আর উপলক্ষ অনুযায়ী কাঁথার নানা পণ্যের কথা আছে।

JADUZ-এর প্রতিটি অর্ডার ক্যাশ অন ডেলিভারি, বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায়: পার্সেল হাতে পেলে কুরিয়ারকে টাকা দেবেন। ডেলিভারি চার্জ আর সাধারণ সময় দেখুন ডেলিভারি পাতায়। পণ্য ভাঙা, ভুল বা বর্ণনার সঙ্গে না মিললে দাবির সময়সীমার (রিটার্ন পাতা) মধ্যে ছবিসহ জানান; JADUZ বদলে দেবে বা টাকা ফেরত দেবে, বিস্তারিত রিটার্ন পাতায়।

এই লেখায়

লোকে যা জানতে চান

বাংলাদেশে নকশি কাঁথার দাম কত?

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলো ঢাকার দোকানে কাঁথার দাম পেয়েছে মোটামুটি ৳১,২৫০ থেকে ৳২০,০০০, আর কুশন কভারের মতো ছোট জিনিস ৳৬০০-এর মধ্যে। ২০২১ সালে এক কারুশিল্পী ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, সূক্ষ্ম নকশার একটি কাঁথার দাম প্রায় ৳২৫,০০০ হতে পারে।

নকশি কাঁথার দাম এত বেশি কেন?

সময়ের কারণে। কয়েক পরত কাপড় হাতে, মোটিফের পর মোটিফ সেলাই করা হয়, আর জমিন ভরাট হয় সারি সারি চলতি ফোঁড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সহজ নকশায় এক-দুই সপ্তাহ, আর ঘন নকশায় মাস, এমনকি বছরও লাগে।

৳১,০০০ টাকার কাঁথা কি আসল হতে পারে?

পার্স বা কুশন কভারের মতো ছোট হাতে সেলাই করা জিনিস সত্যিই ৳১,০০০-এর কম দামে হতে পারে। কিন্তু পুরো মাপের কাঁথা এই দামে পুরোটা হাতে সেলাই হওয়ার সম্ভাবনা কম: ২০১৯ সালে রাজশাহীতে একটি কাঁথা সেলাইয়ের মজুরিই ছিল ৳১,৬০০ থেকে ৳১,৭০০, কাপড় বা দোকানের খরচ ছাড়া।

জামালপুরের নকশি কাঁথার দাম কি বেশি?

জেলা ধরে দামের তুলনা করেছে এমন কোনো উৎস আমরা পাইনি। জামালপুরের নকশিকাঁথা ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে; এটি বলে কাঁথা কোথা থেকে এসেছে, দাম কত হওয়া উচিত তা নয়। দাম ঠিক করে মাপ আর সেলাইয়ের সময়ই।

কাঁথার এখনকার দাম কোথায় দেখব?

পত্রিকার দাম দ্রুত পুরোনো হয়। JADUZ-এ প্রতিটি কাঁথায় চলতি দাম, কারিগর, জেলা আর পণ্যটি তৈরি আছে নাকি অর্ডারে বানানো হবে তা লেখা থাকে, আর বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় ক্যাশ অন ডেলিভারিতে টাকা দেওয়া যায়।

তথ্যসূত্র

  1. Prothom Alo, জেনে নিন ঢাকার কোথায় পাবেন নকশিকাঁথার নানা পণ্য (30 January 2026)
  2. The Daily Star anniversary supplement, Preserving crafts and artists for the generations (17 February 2021)
  3. The Business Standard (BSS), Nakshi Kantha becomes boon for many Rajshahi poor women (4 August 2019)
  4. Banglapedia, Nakshi Kantha
  5. Wikipedia, Nakshi kantha
  6. AramcoWorld, Nakshi Kantha Embroidery: Tales of Heritage and Revival (6 March 2025)
  7. Prothom Alo English, Three products including Jamalpur's Nakshikantha to get GI status (16 February 2024)
  8. Heifer International, Telling Stories Through Nakshi Kantha
  9. Shivalaya Jaipur, What Is a Kantha Quilt? A Buyer's Guide to Hand-Stitched Cotton Quilts (2 August 2026)

জার্নাল থেকে আরও

গাইড

জামদানি শাড়ির দাম কত? ৪ হাজার থেকে লাখ টাকার পার্থক্য কেন

২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথম আলো ঢাকায় জামদানি শাড়ির দাম পেয়েছে ৪০ কাউন্টের মোটা সুতার শাড়িতে মোটামুটি ৳২,৫০০ থেকে, আর ১০০ কাউন্টের মিহি হাফ সিল্কে ৳২০,০০০ থেকে ৳১,০০,০০০; মেশিনের নকল জামদানি ৳৬৫০ থেকে ৳১,৫০০। দাম ঠিক করে সুতার কাউন্ট, নকশার কাজ আর তাঁতে কত সপ্তাহ লেগেছে। ২০২৫ সালে ঢাকার এক মেলায় এক জামদানি কারখানার মালিক বলেছেন, কিছু শাড়ির দাম ৳১,৫০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে।

গাইড

আসল জামদানি শাড়ি চেনার ৮টি উপায়

শাড়িটি উল্টে দেখুন। হাতে বোনা জামদানিতে তাঁতে বসেই প্রতিটি মোটিফ আলাদা সুতায় বুনে তোলা হয়, তাই নকশা দুই পিঠেই দেখা যায়। কাঁচি দিয়ে কাটা মোটিফের কিনারা, মেশিনের মতো হুবহু এক নকশা, খসখসে বা কৃত্রিম ভাব আর অস্বাভাবিক কম দাম মানে কাটওয়ার্ক, পাওয়ারলুম বা ছাপা। কে বুনেছেন, কোথায় বুনেছেন, জিজ্ঞেস করুন।

গাইড

হাতের সেলাই না মেশিনের? নকশি কাঁথা কেনার আগে ৭টি পরীক্ষা

উল্টে দেখুন, কাছ থেকে দেখুন। হাতের চলতি ফোঁড়ের দৈর্ঘ্য আর ফাঁক একটু একটু আলাদা হয়, সারিগুলো সামান্য এঁকেবেঁকে চলে, আর যেখানে সুতা শেষ হয়েছে সেখানে গিঁট বা জোড়া থাকে। মেশিনের সেলাই একদম সমান আর টানটান সোজা, পেছনে প্রায়ই একটানা সুতা দেখা যায়। আসল কাঁথা কয়েক পরতের, নরম, আর গায়ে হালকা ঢেউ থাকে।