কারুকাজের অ্যাটলাস
টেরাকোটা বা পোড়ামাটি হলো হাতে গড়ে আগুনে পোড়ানো মাটির শিল্প, যা দিয়ে ফলক, টালি, মূর্তি, প্রদীপ ও ফুলদানি তৈরি হয়। বাংলাদেশে পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার আর দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দিরে এর দীর্ঘ ঐতিহ্য দেখা যায়। আজ ঢাকার কাছে ধামরাইয়ের কাগজীপাড়া ও শিমুলিয়ার মতো কুমারপাড়ায় পাল সম্প্রদায়ের কারিগরেরা টেরাকোটা গড়েন।
এই কারুকাজে এখনো কোনো পণ্য নেই।
টেরাকোটা সম্পর্কে
টেরাকোটা শব্দটি ইতালীয়, এর মানে পোড়ানো মাটি। মাটি দিয়ে গড়ে তুলনামূলক কম তাপে, সাধারণত প্রায় ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পোড়ালে তা শক্ত ও লালচে হয়ে ওঠে। দক্ষিণ এশিয়ায় হরপ্পা সভ্যতার সময় থেকেই পোড়ামাটি শিল্পের মাধ্যম, আর আজকের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে রয়েছে টেরাকোটার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।
মৃৎশিল্প বহুকাল ধরে বংশপরম্পরায় কুমার ও পাল সম্প্রদায়ের কাজ। তাঁরা নিত্যদিনের হাঁড়ি-পাতিলের পাশাপাশি সাজসজ্জার জিনিসও গড়েন।
আজকের টেরাকোটার কাজের মধ্যে আছে দেয়ালের ফলক, টালি, পাখি ও পশুর মূর্তি, প্রদীপ, ফুলদানি ও টব, সঙ্গে নিত্যব্যবহার্য হাঁড়ি, থালা আর বাটি।
টেরাকোটা হলো কম তাপে পোড়ানো মাটি, তাই এটি মৃৎশিল্পেরই একটি ধরন। সাধারণত সাজসজ্জার ফলক, টালি ও মূর্তির পাশাপাশি গ্লেজহীন পাত্রকেও টেরাকোটা বলা হয়।
প্রতিটি জিনিস হাতে গড়া এবং আলাদাভাবে পোড়ানো, তাই রং ও গড়নে সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক। এটাই হাতে তৈরির চিহ্ন।
নরম ব্রাশ বা শুকনো কাপড়ে ধুলা ঝাড়ুন, ময়লা হলে সামান্য ভেজা কাপড়ে মুছুন। ডিটারজেন্ট বা রাসায়নিক ক্লিনার ব্যবহার করবেন না।
কারিগর যদি বলেন যে জিনিসটি সে কাজের জন্য তৈরি, তবেই। সাজসজ্জার জিনিসে এমন রং বা ফিনিশ থাকতে পারে যা খাবারের জন্য নয়।
JADUZ কিউরেটরদের যাচাই করা · হালনাগাদ ২ অক্টোবর, ২০২৬